নতুন পাতা
  • প্রথম পাতা
  • প্রচ্ছদ
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • লগ ইন
  • Font Problem?

গাঁয়ের নাম হরিয়াবহ

June 25, 2012
By নতুনপাতা

হরিয়াবহ বলতে গেলে একটি অজপাড়াগাঁ। বি-বাড়ীয়া  জেলার কসবা থানার ছোট্ট একটি গ্রাম, কিন্তু সৌন্দর্যে বিশাল। আশপাশে ভারতের সীমান্ত। হরিয়াবহ গ্রামে এখনো বিদ্যুত পৌঁছায়নি। সরাসরি কোনও বাস যায় না। ডাকাতের ভয়ে কেউ সন্ধ্যার পর এ পথে চলতে সাহস করে না। এখানকার বেশিরভাগ পুরুষ চাকরিজীবী। কিছু পুরুষেরা চাকরির জন্য ঢাকা নয়তো চট্টগ্রাম অবস্থান করছে,কিছু পুরুষ মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমিয়েছে, আর বাকিরা গ্রামে কৃষি কাজ করে। বলা যায় এই গ্রামে অবস্থানরত পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি। আমার ফুফুর বাড়ি  সেই গ্রামে তাই প্রায় সময় যাই সেখানে।
ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন। আখাউড়া থেকে   টেম্পুতে করে ইমাম বাড়ি। ইমাম বাড়ি নেমে রিক্সায় করে চণ্ডিদার বাজার। সেখান থেকে একটু হেঁটে গেলেই হরিয়াবহ গ্রাম। এছাড়া ঢাকা থেকে সকালে কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামে একটি লোকাল ট্রেন যায়। কর্ণফুলী এক্সপ্রেস করে ইমাম বাড়ি পর্যন্ত গেলে সেখান থেকে রিক্সায় চণ্ডিদার বাজার।
হরিয়াবহ গ্রামের বিয়েতে এখনও পালকির প্রচলন রয়েছে। এই গ্রামের বিয়েতে এখনও পালকিতে করে বউ নিয়ে যেতে  দেখা যায়। ইমাম বাড়ি পালকি ভাড়া দেওয়া হয় যেখানে গেলে পালকির দেখা মিলে। তবে দিনদিন পালকির কদর কমে যাচ্ছে। ছোটবেলায় অসংখ্য পালকি  দেখতাম। তখন পালকি ছিল বিয়ের পর বউ নিয়ে যাওয়ার এক মাত্র মাধ্যম। এখন আর আগের মতো পালকি নেই। সম্পূর্ণ গ্রামজুড়ে কাঁঠালের বাগান। যাওয়ার পথে রাস্তার দু’পাশে কাঁঠাল গাছ। বলা যায় কাঁঠালের দেশ। দূর-দুরান্তে দেখা যায় উঁচু উঁচু পাহাড়। যার বেশির ভাগ অংশ ভারতের সীমান্তের ভেতরে। হরিয়াবহ গ্রামের পাশেই চণ্ডিদার সীমান্ত। চণ্ডিদার বাজারের ভেতর দিয়েই গ্রামে যাওয়ার পথ। পাশেই একটি স্কুল। ঢাকা থেকে কেউ এলে বাজারের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় সবাই তাকিয়ে থাকে। কেউ  কেউ প্রশ্ন করে আপনারা কোন বাড়িতে যাবেন। বাজারে অল্প কিছু দোকান, যেখানে সব কিছু পাওয়া যায় না। ব্যাংক,মানি ট্রান্সফার সুবিধা, কুরিয়ার সার্ভিস, বিউটি পার্লার এই সব কিছুই নেই। মিষ্টির দোকানের মিষ্টিগুলো খুবই সুস্বাদু। কিন্তু চায়ের দোকানে চা খেয়ে স্বাদ পাওয়া যায় না। এখানকার চা বানানো ভালো হয় না। বিকেলে পিয়াজুর মতো দেখতে ছোট ছোট তেলে ভাজা এক প্রকারের খাবার পাওয়া যায়, খেতে খুবই মজা। বিক্রি হয় পাল্লা পাথর দিয়ে মেপে  কেজি দরে।
রাতের বেলায় দেখা যায় জোনাকি পোকা। হাজার হাজার জোনাকি পোকা চারিদিকে আলো ছডায়। পুরো গ্রামটিকে আলোকিত করে তোলে। তখন একটি গান খুব মনে পড়ে  জোনাকির আলো নিভে আর জ্বলে শাল মহুয়ার বনে……..। গ্রষ্মকালে বেড়াতে গেলে ইচ্ছা মতো আম-কাঁঠাল খাওয়া যায়। তবে আম খাওয়ার বিষয়ে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা এই গ্রামের বেশিরভাগ আম গাছের আমের ভেতরে পোকা হয়। বাড়িতে বাড়িতে চলে ধান ভাঙ্গার উৎসব। সবার পরিচিত দারোগা বাড়ির পুকুর ঘাট। গ্রামের অনেকেই এই পুকুর ঘাটে গোসল করে। আমি বেড়াতে গেলে সেই পুকুরে গোসল করতে চলে যাই।
শান্ত একটি গ্রাম চারিদিকে সবুজ ধান ক্ষেত। শাক-সবজির বাগান। পথ হেঁটে কিছু দূর গেলেই অসংখ্য পাহাড় এই গ্রামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। পাহাড়ের ওপরে উঠার জন্য সিঁড়ি কাটা আছে। ওপরে শুধুই কাঁঠাল গাছ।  ছোট ছোট কাঁঠাল গাছগুলোতে কাঁঠাল ঝুলে থাকতে দেখা যায়।

রফিকুল ইসলাম সাগর
বনানী, ঢাকা

আরও পড়তে পারো

  • সবুজের কাছেসবুজের কাছে (2)
  • চলো ঘুরে আসি কক্সবাজারচলো ঘুরে আসি কক্সবাজার (0)
  • বান্দরবান : বাংলার দার্জিলিংবান্দরবান : বাংলার দার্জিলিং (0)
  • 1সুন্দরবনে একদিন (0)
  • গাছ ফড়িং আর বনের সাথেগাছ ফড়িং আর বনের সাথে (0)

শেয়ার করো:

  • Email
  • Print

One Response to গাঁয়ের নাম হরিয়াবহ

  1. মনা
    June 26, 2012 at 1:45 am

    নতুন একটি গ্রামের নাম শুনলাম। অনেক কিছুই জানতে পারলাম , হরিয়াবহ গ্রাম সম্পর্কে ।

    Reply
Cancel Reply

এ সংখ্যার প্রচ্ছদ



  • প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
  • বিশেষ রচনা
  • ফিচার
  • গল্প
    • ছেলেবেলার গল্প
  • কার্টুন
  • খেলাধুলো
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
    • আবিষ্কার
  • গবেষণা
  • ভ্রমণ
  • সহজ পাঠ
  • বিবিধ
    • চিঠিপত্র
    • স্মরণ
Copyright © 2013 নতুন পাতা. All Rights Reserved.
Developed by Md. Bakibillah.
loading Cancel
Post was not sent - check your email addresses!
Email check failed, please try again
Sorry, your blog cannot share posts by email.