
প্রভুভক্ত প্রাণী হিসেবে কুকুরের জুড়ি মেলা ভার। পাহারাদার হিসেবেও রয়েছে এর সুখ্যাতি। কখনও কখনও নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করে প্রভুকে। বিশে^র প্রায় সব দেশেই কুকুর পোষা হয়। আর ইউরোপের দেশগুলোতে এ প্রাণী তো ফ্যাশন। এটি না থাকলে নিজেকে খানিকটা ছোটই মনে হয়। ফলে কুকুর নেই সেখানে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এদের বেশিরভাগকে দামি পোশাক পরানো হয়। দেওয়া হয় উন্নতমানের খাবার। ঘটা করে জš§দিনও পালন করা হয়। ঘুমানোর জায়গাও অনেক উন্নত। এরা সাধারণত মালিকের বিছানায় ঘুমায়। এদের দেখভালের জন্য কর্মচারী থাকে অনেক পরিবারে। চিকিৎসার জন্য গড়ে উঠেছে হাসপাতাল। সব মিলিয়ে কুকুর নিয়ে তাদের চিন্তার যেন শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বসবাস করে ক্যারেন কবের পরিবার। তাদের রয়েছে আড়াই বছর বয়সী একটি কুকুর। এর নাম রাখা হয়েছে নরম্যান। এটি বেশ কিছুদিন ধরে বিশ^ মডেলে পরিণত হয়ে গেছে। লাখ লাখ লোকের মুখে ফেরে এর নাম। কেননা, এ কুকুরটি এখন বাইসাইকেল চালাতে পারে। যেনতেনভাবে নয়, বেশ দক্ষতার সঙ্গেই এ কাজটি করে থাকে এটি। বাড়ির উঠানের রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে অল্প দূর অতিক্রম করতে পারে। ক্যারেন জানান, নরম্যান প্রথমে বাচ্চাদের সাইকেল নিয়ে খেলতো। বার বার সাইকেলে উঠার চেষ্টা করতো। এ থেকে তাদের ধারণা হয় এটি সাইকেল চালাতে পারবে। তিনি বলেন, এটির পেছনের পায়ের মাংসপেশিগুলো অপেক্ষাকৃত দুর্র্বল মনে হচ্ছিল। এ নিয়ে তারা এক সময় বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। সিন্ধান্ত নেন কুকুরটিকে সাইকেল চালানো শেখাবেন। যে কথা সেই কাজ। নীল রঙের একটি সাইকেলে বার বার এটাকে উঠানোর চেষ্টা করা হয়। প্রথম দিকে এটি তেমন ভালো করতে পারেনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি ক্যারেন। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। কিছু দিন পর এটি ঠিকই পেডেলে ভর করে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় সামনের পা দু’টি থাকে হ্যান্ডেলে। সাইকেল চালানো শিখতে এটির সময় লাগে ১০ সপ্তাহ। অনেক মানব শিশুরও সাইকেল চালানো শিখতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। ক্যারেন বলেন, সুস্থ’ থাকতে নরম্যানকে এখন আর ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই। এ জন্য সাইকেল চালানোই যথেষ্ট। তিনি বলেন, নরম্যান সঠিকভাবে পেডেল নাগাল পায় এমন একটি সাইকেল তারা সত্যিই অনেক চেষ্টা করে যোগাড় করতে সক্ষম হন। নীল রঙের সাইকেলটিকে বেশ ভালোভাবেই নিয়েছে কুকুরটি। ক্যারেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এটির পেছনের পায়ের মাংসপেশি তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। ক্যারেন বলেন, তিনি আর কোনো কুকুর চান না। নরম্যান নিয়ে তিনি খুবই গর্বিত। এটি খুবই প্রভুভক্ত ও আদরের। তিনি বলেন, ইন্টারনেটে ২০ লাখ বারের মতো নরম্যানের সাইকেল চালানো দেখেছেন উৎসুক লোকজন। এছাড়া ডেভিড লেটারম্যানের ‘সো ইন নিউইয়র্ক’ এবং ‘হু লেট দ্য ডগস আউট’ নামে অ্যানিমেল স্পেশাল প্রোগ্রামে এটির সাইকেল চালানো প্রদর্শন করা হয়। নরম্যানের আরও কিছু গুণ রয়েছে। এটি দরজা বন্ধ করতে পারে। গামলা থেকে পানি নিয়ে মুখ ধুতে পারে। ফ্রান্সের বংশোদ্ভূত নরম্যানের সাধারণ পাহারাদার কুকুরের গুণও রয়েছে। ক্যারেন বলেন, এটি সত্যিই তাদের প্রিয় বন্ধুু। তারা সব জায়গায় এটাকে নিয়ে যান।
সূত্র:ডেইলি মেইল অনলাইন
সিরাজুল ইসলাম




>
>
>