আসাদ চৌধুরী
ডিম। সাদা ফক-ফক রং তার। ডিমটা ধীরে ধীরে ফাটে। আর তার ভেতর থেকে বেরোয় হলুদ রঙের একটা হাঁসের ছানা। সেখানে আর কেউ ছিলো না। একেবারেই একা। হাঁসের ছানা ভাবছে সে কে, তার মা-বাবাই বা কোথায়?
একটা বেড়াল মজা করছিল তার ছানা-ছোনা নিয়ে। হাঁসের ছানা শুধায়, তুমি কি আমার মা?
বেড়াল ছাও হিহি করে হেসে ওঠে। আর বেড়ালটাও বলে, মিউ মিউ, না গো সোনা, আমি তো এদেরই মা। তোমার মা নই তো।
হাঁসের ছানা চলতে শুরু করে।
সামনে পড়ে একটা কুকুর। সেও তার আদরের বাচ্চাদের নিয়ে খেলছিলো। হাঁসের ছানা তাকেও শুধায় সেই একই কথা তুমি কি আমার মা?
ঘেউ ঘেউ, না গো সোনা-মানিক, আমি তোমার মা নই। আমি এদের মা।
মায়ের খোঁজে আরো সামনের দিকে এগোয় হাঁসের ছানা। তিন তিনটি ছাগল-ছানা তিড়িং-বিড়িং করে দৌড়-ঝাঁপ করছে, আর মা চুপচাপ বসে ওদের মজা করা দেখছে।
সে কাছে যায়, ভয়ে ভয়ে শুধায় তুমি কি আমার মা হও? আমি আমার মাকে খুঁজছি।
ব্যা, ব্যা, ব্যাব্যা । না গো বাছা, আমি তোমার মা নই।
বাছুরের গা চাটছে গরু, বেশ ভয় পায় হাঁসের ছানাটি, তবুও কাছে গিয়ে শুধায়- তুমি কি আমার মা? আমি আমার মাকে এখনও দেখিনি।
বাছুরটা একটু সরে দাঁড়ায়, গরুটা বাছুরটার দিকে চোখ রেখে বলে- হাম্বা, হাম্বা, না না, আমি তোমার মা নই।
এমন সময় পুকুর থেকে একটা হাঁসকে হেলতে দুলতে আসতে দেখে দৌড়ে কাছে যায়। হাঁসটিও আদর-মাখা চোখ দিয়ে ছুঁতে থাকে তাকে। খুশিতে হাঁসটির তোতলামি শুরু হয় ত-তুমি তু-তুমি কি আমার মা?
হাঁসটি হেসে ওঠে, হাসতে হাসতে বলে- আমিই তোর মা, তুই কেমন করে চিনে ফেললি আমাকে?
হাঁসের ছানাটির মুখে আর রা নেই। মায়ের মুখে মুখ দিয়ে ঘষে। সেও হাসতে থাকে।
মাকে খুঁজে পাওয়ার মজাই আলাদা।
(বিদেশী গল্প অবলম্বনে)


>
>
>
আরে!… সেই ছোট্ট বেলায় পড়েছিলাম এই ধরনের গল্প। প্রানীগুলি ভিন্ন ছিলো। এই গল্পটার আগে কোন গল্প পড়েছি তা মনে পড়েনা। আব্বু কিনে এনেছিলেন গল্পের বইটা।