সোহেল অটল
দীপু নাম্বার টু। এই নামটির সাথে নিশ্চয়ই তোমাদের পরিচয় আছে। ওই যে ক্লাসে দুইটা দীপু হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন স্যার। অতঃপর উপায় বাতলে দেন তিনিই। নতুন দীপুটাকে ‘দীপু নাম্বার টু’ বানিয়ে দেন। যাহোক, ওই দীপুকে নিয়ে যিনি গল্পটা লিখেছিলেন, এবার সেই মুহাম্মদ জাফর ইকবালই লিখেছেন রাশেদকে নিয়ে নতুন একটা গল্প। ঠিক গল্প না, উপন্যাস। গল্প অনেক বড় হয়ে গেলে তাকে যে উপন্যাস বলেÑ এটা নিশ্চয়ই তোমরা জানো। আর আগের দীপুকে নিয়ে যিনি চলচ্চিত্র বানিয়েছিলেন, সেই মোরশেদুল ইসলাম তোমাদের জন্য রাশেদকে নিয়ে এসেছেন চলচ্চিত্রে। নাম ‘আমার বন্ধু রাশেদ’। গত ১ এপ্রিল চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। রাজধানীর বলাকা, স্টার সিনেপ্লেক্সসহ বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে এর প্রদর্শনী চলছে।
দীপুর মতোই রাশেদের বয়স। কতো আর, ধরে নাও তোমাদের মতোই। তবে ছেলেটা একটু বিচিত্র স্বভাবের। ভয়-ডর নেই। আর কেমন যেন বড়দের মতো কথা বলে। অবশ্য বড়দের অনেক ব্যাপারই সে বোঝে। এই যেমন ধরো, ১৯৭১ সালের কথা। রাশেদের বয়স তখন তোমাদের মতো। স্কুলে যায়, বন্ধুদের সাথে খেলা করে। কিন্তু তার মনে তখন অন্য চিন্তা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অত্যাচার শুরু করেছে আমাদের ওপর। জানোই তো, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। সেই যুদ্ধে অনেক বাঙালি প্রাণও দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। তো, সেই সময়ের রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা খেলা করতো রাশেদের মাথায়। বোঝো তাহলে, কতটা বুদ্ধি রাশেদের ! রাশেদ এবং তার বন্ধুরা কিন্তু ঢাকায় পড়াশোনা করতো না। ওরা থাকতো মফস্বলে।
একবার হলো কী জানো?। ওই একাত্তরের যুদ্ধের সময়ই। রাশেদ ও তার বন্ধুরা মিলে ঠিক করলো মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করবে। একাত্তরে দেশের স্বাধীনতার জন্য যারা যুদ্ধ করেছেন তারাই মুক্তিযোদ্ধাÑ এটা নিশ্চয়ই তোমাদের অজানা নয়। যাহোক, সম্মুখযুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিপক্ষ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী হলেন। তখনই রাশেদের মাথা থেকে বেরুলো অসাধারণ এক বুদ্ধি। নানান ফন্দি খাটিয়ে সে মুক্তিযোদ্ধাটিকে মুক্ত করে নিয়ে আসে। অবশ্য তার বন্ধুরা তাকে খুবই সাহায্য করেছে। এরপর রাশেদ তার বন্ধুদের সাথে বেশিদিন থাকতে পারেনি। কারণ, যুদ্ধ তখন চরম আকার ধারণ করেছে। একসাথে থাকার মতো অবস্থা তখন ছিলোও না। ফলে বাধ্য হয়ে রাশেদ বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে যুদ্ধ সে থামায়নি। পুরোটা সময় নিজের সামর্থের শেষ বিন্দু দিয়ে যুদ্ধ করেছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাশেদের সব বন্ধু ফিরে আসে মফস্বল শহরটিতে। মেতে ওঠে স্বাধীনতার উল্লাসে। কিন্তু কোথায় যেন তাদের খটকা। তাই তো, রাশেদ কোথায়? সে তো এখনো ফেরেনি! তবে কী..? কেউ জানে না তাদের বিচিত্র সেই বন্ধুটি কোথায়, কী করছে। রাশেদ সত্যিই আর কোনোদিন ফেরেনি। তবে হারিয়ে যায়নি কারো হৃদয় থেকেই। তার স্মৃতি বেঁচে থাকে বন্ধুদের হৃদয়ে।
তোমরা তো জানোই, আমাদের দেশে শিশু-কিশোরদের নিয়ে খুব কমই চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়। অথচ বহি:বিশ্বের দিকে তাকাও। শিশুতোষ চলচ্চিত্রের অভাব নেই। এই যে দেখো না, ক’দিন আগেই অস্কার পেলো ‘টয় স্টোরি ৩’ নামের একটি অ্যানিমেশন ফিল্ম। সেটা কিন্তু শিশু-কিশোরদের কথা চিন্তা করেই নির্মাণ করা হয়েছিল। যাহোক তবুও যে মাঝে-মধ্যে তোমরা দীপু নাম্বার টু, আমার বন্ধু রাশেদ- এর মতো চলচ্চিত্র দেখতে পাচ্ছো, তার জন্য সংশ্লিষ্টরা ধন্যবাদ পেতে পারে। এবার আরেকটা স্পেশাল ধন্যবাদ দিতে পারো বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে। কারণ, এই ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ সরকারী অনুদান পেয়েই আলোর মুখ দেখার উপযুক্ত হয়েছে। এটা যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে মনন চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি.। ছবিটি দেখতে চাইলে তোমরা হাতের কাছে কোনো প্রেক্ষাগৃহে যেতে পারো। আর এই ছবি সম্পর্কে অতিরিক্ত কোনো তথ্য দরকার হলে www.amarbondhurashed.com এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারো।



>
>
>